Stevia Seeds Price in Bangladesh | স্টেভিয়া বীজ চাষ ও উপকারিতা
এক সময় মিষ্টি ছিল আমাদের জীবনের সুখের এক টুকরো। কিন্তু ডায়াবেটিসের কারণে অনেকেই চিনি, শরবত, চা কিংবা কফির মিষ্টি স্বাদ থেকে দূরে সরে গেছেন।
আপনি কি ভাবছেন—আর কি কখনো চিনি ছাড়াই মিষ্টির স্বাদ উপভোগ করা সম্ভব?
✅ হ্যাঁ, সম্ভব।
তার সমাধান হলো স্টেভিয়া (Stevia) — একেবারে প্রাকৃতিক, ডায়াবেটিক-ফ্রেন্ডলি মিষ্টির উৎস।
এই পোস্টে জানবেন স্টেভিয়া বীজের দাম, চাষ পদ্ধতি, উপকারিতা ও কেন এটি আপনার জন্য সেরা পছন্দ।
🌱 স্টেভিয়া কী?
স্টেভিয়া হলো একটি প্রাকৃতিক ভেষজ উদ্ভিদ, যার পাতা চিনির তুলনায় ৭–৮ গুণ বেশি মিষ্টি।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—
👉 এতে ক্যালোরি ও কার্বোহাইড্রেট নেই বললেই চলে, তাই এটি ব্লাড সুগার বাড়ায় না।
এই কারণেই স্টেভিয়াকে বলা হয় ডায়াবেটিকদের প্রাকৃতিক মিষ্টি।
🌿 কেন স্টেভিয়া বীজ ব্যবহার করবেন?
✅ ১. চিনির সেরা প্রাকৃতিক বিকল্প
স্টেভিয়া পাতার গুঁড়া বা নির্যাস চিনি ছাড়াই মিষ্টির স্বাদ দেয়—কোনো ক্ষতি ছাড়াই।
✅ ২. ডায়াবেটিক ফ্রেন্ডলি
স্টেভিয়া ব্লাড সুগার লেভেল বাড়ায় না, তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ।
✅ ৩. ক্যালোরি ফ্রি
ওজন কমাতে চান? ডায়েট করছেন?
স্টেভিয়া ক্যালোরি ফ্রি হওয়ায় এটি আদর্শ।
✅ ৪. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, স্টেভিয়া উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
✅ ৫. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ
স্টেভিয়াতে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের কোষ সুরক্ষায় সাহায্য করে।
✅ ৬. দাঁতের জন্য নিরাপদ
চিনি দাঁতের ক্ষতি করে, কিন্তু স্টেভিয়া দাঁতের ক্ষতি করে না—
👉 তাই Kids Friendly Sweetener।
✅ ৭. বহুমুখী ব্যবহার
চা, কফি, শরবত, কেক, পুডিং, মিষ্টান্ন—সবকিছুতেই ব্যবহার করা যায়।

🌱 স্টেভিয়া বীজ থেকে চাষ করার সুবিধা
নিজের বাড়ির ছাদ বা টবে সহজেই চাষ করা যায়
সারাবছর পাতা সংগ্রহ সম্ভব
একবার গাছ বড় হলে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়
খরচ কম, লাভ বেশি
👉 তাই যারা ঘরে বসে প্রাকৃতিক মিষ্টির উৎস চান, তাদের জন্য স্টেভিয়া বীজ দারুণ সমাধান।
🌾 স্টেভিয়া বীজ চাষ পদ্ধতি (সংক্ষেপে)
টব বা জমিতে ঝরঝরে দোআঁশ মাটি + কোকোড্রাস্ট ব্যবহার করুন
বীজ হালকা মাটির নিচে বপন করুন
সরাসরি রোদ নয়, হালকা রোদে রাখুন
নিয়মিত হালকা পানি দিন
৩০–৪৫ দিনের মধ্যেই গাছ বড় হতে শুরু করবে
🌾 স্টেভিয়া বীজ চাষ পদ্ধতি ( বিস্তারিত )
পদ্ধতি ১: সরাসরি মাটিতে বীজ বপন।
১) মাটি প্রস্তুতি: মাটি ঝুরঝুরে, নরম, ভাল ড্রেনিং, কম্পোস্ট + বালি মিশিয়ে নিন, বড় ঢেলা ভেঙে নিন।
২) বীজ বপন: মাটির ওপর হালকা লাইন কেটে বীজ ছড়িয়ে দিন, বীজের ওপর মাটি দেবেন না, শুধু হালকা চাপ দিন।
৩) আর্দ্রতা বজায়: বীজ শুকালে অংকুর হবে না, প্রতিদিন স্প্রে করে ভিজিয়ে রাখুন। পলিথিন বা জাল দিয়ে ঢেকে রাখুন যাতে আর্দ্রতা ধরে।
৪) অংকুরণ সময়: ৭–২১ দিন। অংকুর বের হলে ধীরে ধীরে ছায়া সরান।
৫) পাতলা করা: অংকুর ঘন হয়ে গেলে বড় চারাগুলো রেখে বাকিগুলো তুলে ফেলুন। গাছের মাঝে ৩০–৪৫ সেমি ফাঁক দিন।
গুরুত্বপূর্ণ টিপস
স্টেভিয়া জলাবদ্ধতা সহ্য করে না → ড্রেনেজ খুব ভালো হতে হবে। সে জন্য Geo Grow Bag ব্যবহার করা ভালো।
দিনে ৪–৬ ঘণ্টা আলোর দরকার।
খুব গরমে (মে–জুন) দুপুরে হালকা ছায়া দিন।
ফুল আসলে কেটে ফেললে পাতা আরও মিষ্টি হয়।
অতিরিক্ত শীত এলে গাছ ঢেকে রাখুন বা ইনডোরে তুলুন।
পদ্ধতি ২: কোকোপিট দিয়ে স্টেভিয়া বীজ বপনের নিয়ম।
১) প্রয়োজনীয় জিনিস: কোকোপিট/ Coco Dust block (ফাইন গ্রেড হলে ভালো), সীড ট্রে/ছোট পট/ডিসপোজেবল কাপ, পানি স্প্রে, স্বচ্ছ ঢাকনা বা পলিথিন।
২) কোকোপিট প্রস্তুতকরণ: কোকোপিট ব্লোক হলে পানিতে ভিজিয়ে ফুলিয়ে নিন। অতিরিক্ত পানি চিপে বের করে নরম-ঝুরঝুরে করুন। চাইলে ১০% পারলাইট মেশাতে পারেন (বাতাস চলাচল ভালো হয়)।
৩) ট্রে বা পট ভর্তি: সীড ট্রে , জিও গ্রো ব্যাগ বা পট ৯০% পর্যন্ত কোকোপিট দিয়ে ভরুন। মাটি হালকা চাপ দিয়ে সমান করুন। উপরের অংশ যেন নরম থাকে।
৪) বীজ বপন (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ): স্টেভিয়া বীজ মাটির নিচে যাবে না। কোকোপিটের ওপরে হালকা ছড়িয়ে দিন। আঙুল দিয়ে খুব হালকা করে চাপ দিন যেন বীজ মাটির সাথে লেগে যায়। কোনভাবেই মাটি দিয়ে ঢাকবেন না।
৫) পানি দেওয়া: সরাসরি পানি ঢালবেন না → বীজ ভেসে যাবে।
স্প্রে বোতল দিয়ে খুব হালকা ভিজিয়ে দিন।
৬) আর্দ্রতা ধরে রাখা: ট্রে/পটকে স্বচ্ছ ঢাকনা বা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিন। এতে ভেতরে আর্দ্রতা ও উষ্ণতা থাকবে, অংকুর দ্রুত হবে।
৭) কোথায় রাখবেন: রুম টেম্পারেচার ২০–২৫°C কিন্তু সরাসরি রোদ নয়, অথবা ১-২ ঘণ্টা সকালের রোদ উজ্জ্বল আলোয় রাখুন।
৮) প্রতিদিনের যত্ন: (১–৩ সপ্তাহ), দিনে ১ বার পলিথিন খুলে ১ মিনিট বাতাস চলাচল করান। কোকোপিট শুকিয়ে গেলে স্প্রে করে ভিজান। বীজ শুকিয়ে গেলে অংকুর হবে না — আর্দ্রতা বজায় খুব জরুরি।
৯) অংকুর বের হওয়ার সময়: সাধারণত ৭–২১ দিনের মধ্যে চারা বের হয়। চারার উচ্চতা ১–২ ইঞ্চি হলে ধীরে ধীরে ঢাকনা খুলে দিন।
১০) বড় হওয়ার পর: চারা ২–৪ টা প্রকৃত পাতা বের করলে → আলাদা পট বা মাটিতে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করুন। ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার সময় শিকড় যেন না ভাঙে।
অতিরিক্ত টিপস (Pro Tips)
কোকোপিট সবসময় হালকা ভেজা রাখুন—ভেজা কিন্তু কাদা নয়।
আলোর অভাবে চারা লম্বা-দুর্বল হয়ে যায়।
গরম দিনে দুপুরের কড়া রোদ থেকে দূরে রাখুন।
বীজ বেশি ঘন করে ছড়াবেন না—চারা বাতাস না পেলে নষ্ট হয়।
খুব ঠান্ডায় অংকুর বন্ধ হয়ে যায়।

















Reviews
There are no reviews yet.