Bio Blast – জৈব ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ানাশক
বায়ো-ব্লাস্ট: একটি পরিবেশবান্ধব জৈব ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ানাশক
বর্তমান কৃষিতে ফসলের সুস্থতা ও নিরাপদ উৎপাদন নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের কারণে ধান, টমেটো, মরিচ, চা সহ নানা ফসলে ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে। এসব সমস্যার কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব সমাধান হিসেবে বায়ো-ব্লাস্ট একটি আধুনিক যুগের জৈব ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ানাশক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বায়ো-ব্লাস্টের পরিচিতি
বায়ো-ব্লাস্ট একটি পরিবেশবান্ধব জৈব ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ানাশক, যা দুইটি ভিন্ন ভিন্ন জৈব রাসায়নিক উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি। প্রতি কেজি বায়ো-ব্লাস্টে সক্রিয় উপাদান হিসেবে রয়েছে ২৫ গ্রাম জোংশেংমাইসিন এবং ৭৫ গ্রাম অলিগোস্যাকারিনস। এই দুটি উপাদান একসাথে কাজ করে গাছের ক্ষতিকর ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

বায়ো-ব্লাস্ট কীভাবে কাজ করে
বায়ো-ব্লাস্টে বিদ্যমান জোংশেংমাইসিন একটি শক্তিশালী এন্টি-ব্যাকটেরিয়া উপাদান। এটি উদ্ভিদের রোগ সৃষ্টিকারী ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিন সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে। একই সঙ্গে এটি ছত্রাকের অঙ্গজ বৃদ্ধিকারী মাইসেলিয়াম এর বৃদ্ধি বন্ধ করে এবং স্পোরের অঙ্কুরোদগমে বাধা দেয়। ফলে ছত্রাকজনিত রোগ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
অপরদিকে, অলিগোস্যাকারিনস একটি প্রতিরোধক ছত্রাকনাশক উপাদান, যা গাছের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর ফলে ছত্রাক ঘটিত রোগের আক্রমণ প্রতিরোধ হয় এবং ফসল দীর্ঘ সময় সুস্থ থাকে।
প্রয়োগক্ষেত্র ও অনুমোদিত মাত্রা
বায়ো-ব্লাস্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফসলে ব্যবহার করা যায়।
ফসল: ধান, টমেটো, মরিচ ও চা
রোগের নাম:
ব্লাস্ট
ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট
ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট
ফিউজারিয়াম উইল্ট
রেড রাস্ট
ব্যবহার মাত্রা:
প্রতি ১ লিটার পানিতে: ১.৫ গ্রাম
প্রতি হেক্টরে: ৭৫০ গ্রাম
এটি সকল ফসলের ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ দমনে অত্যন্ত কার্যকর।
বায়ো-ব্লাস্ট ব্যবহারের নিয়ম
১. প্রতি ১ লিটার পানিতে ১.৫ গ্রাম বায়ো-ব্লাস্ট ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
২. মিশ্রণটি জমিতে স্প্রে করুন।
৩. ভালো ফল পাওয়ার জন্য আক্রান্ত গাছের সমস্ত অংশ এবং মাটির গোড়ার দিক ভালোভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করা জরুরি।
৪. রোগের আক্রমণ বেশি হলে ৫–৭ দিন অন্তর ২–৩ বার বিকেল বেলা স্প্রে করতে হবে।
ব্যবহারের সময় সতর্কতা
ব্যবহারের সময় পানাহার ও ধূমপান সম্পূর্ণ নিষেধ।
প্রখর রোদে বা বাতাসের বিপরীতে খালি গায়ে স্প্রে করবেন না।
ব্যবহৃত খালি প্যাকেট নষ্ট করে মাটির নিচে নিরাপদ স্থানে পুঁতে রাখুন।
সংরক্ষণ ও গুদামজাতকরণ
বায়ো-ব্লাস্ট সংরক্ষণ করতে হবে শুষ্ক ও ঠান্ডা ছায়াযুক্ত স্থানে। আগুন থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। গুদামজাতকরণের সময় খাদ্যদ্রব্য ও পশুখাদ্য থেকে আলাদা ও নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা আবশ্যক।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
বায়ো-ব্লাস্ট ব্যবহারে তেমন কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায় না। তবে কোনো উপসর্গ দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
উপসংহার
ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ দমনে বায়ো-ব্লাস্ট একটি কার্যকর, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব সমাধান। সঠিক মাত্রা ও নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে ফসল সুস্থ থাকে এবং উৎপাদন ক্ষতি কমে যায়। আধুনিক কৃষিতে নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য বায়ো-ব্লাস্ট একটি নির্ভরযোগ্য জৈব ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ানাশক।















Reviews
There are no reviews yet.