Tiles Installation Method – টাইলস লাগানোর নিয়ম – টাইলস নিয়ে সব সমস্যার সমাধান

Tiles Installation Method - টাইলস লাগানোর নিয়ম - টাইলস নিয়ে সব সমস্যার সমাধান

Tiles Installation Method – আমার কাছে টাইলসের কাজটা জটীলই মনে হয় কারণ টাইলসের কাজ একবার হয়ে গেলে সেটা আর প্রোপারলি ভুল সংশোধনের সুযোগ নেই তাই। টাইলসের মধ্যে ফ্লোর টাইলসের কাজ কিছুটা জটীল যা একমাত্র মিস্ত্রীর দক্ষতা ও প্রোপারলি সুপারভিশনই কাজের একোরেসি আনতে পারে। দক্ষ মিস্ত্রি না হলে ফলাফল শূন্য।

এখন আমরা টাইলস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

  • টাইলস কি?
  • টাইলস এর প্রকার।
  • ফ্লোর টাইলস এর কাজ।
  • ওয়াল টাইলস এর কাজ।
  • টাইলস কত পিস লাগবে তার হিসাব।
  • টাইলস এর জন্য মালামালের হিসাব।

টাইলস কি?

সিভিল কাজে টাইলস একটা ফিনিশিং আইটেম।আগে ফ্লোরে নেট সিমেন্ট ফিনিসিং করতো আর এক্সপেনসিভ আইটেম বড়জোর মোজাইক আর এখন টাইলস অন্যতম ফিনিশিং আইটেম ।টাইলস হল সর্বাধুনিক ফ্লোর ফিনিসড এটা স্থাপনে জটিলতা নেই দেখতে সুন্দর এটা ফ্লোর ওয়াল দুজায়গাতেই করা হয়।টাইলস সাধারনত ফ্লোর,বাথরুম,কিচেনের ভেতর ই কমনলি লাগানো হয়।

টাইলস এর প্রকার 

আমরা এখন অনেক প্রকার টাইলস ব্যবহার করে থাকি যেমন:-
  • ফ্লোর ও ওয়াল টাইলস
  • রাস্টিক টাইলস
  • পেভম্যান্ট টাইলস
  • সিরামিক্স টাইলস
  • সিটি-৫ টাইলস বা বির্ক
বিভিন্ন সাইজের টাইলস বাজারে পাওয়া যাই ফ্লোর
 
১২”x১২, ১৬”x১৬”, ২০”x২০”
 
২৪”x২৪”,৩২”x৩২”,২৪”x৪৮” ইত্যাদি
 
ওয়াল ৮”x১২”, ১০”x১৩”, ১০”x১৬”, ১২”x১৮”,
 
১২”x২০”, ১২”x২৪”, ১২”x৪৮”
 
এছাড়া চায়না অনেক প্রকার ওয়াল টাইলস পাওয়া যায়।

ফ্লোর টাইলস লাগানোর নিয়ম ( Tiles Installation Method )

১।প্রথমে ফ্লোর চিপিং কর এবং ধুয়ে পরিস্কার করে পাতলা সিমেন্ট গ্রাউটিং করতে হবে পুরোনো ফ্লোর হলে।
 
২। যদি হোমোজিনিয়াস টাইলস হয় তবে টাইলস ভেজানোর দরকার নেই
 
৩। শুকনা মশলা ১:৩ রেশিওতে বানাতে হয় কারন ফ্লোরে অনেক কিছুর লোড পড়ে ও ব্যবহার হয় বেশী ।
 
৪। যথারিতি স্যনিটারী লাইন যদি নীচ দিয়ে যায় তবে লিকেজ ও প্রেসার চেক কর এর পর লেভেল পায়া কর।
 
৫। দরজার নীচে যেন ১/২” ক্লিয়ার থাকে সে মত পায়া হবে এর পর শুকনা মশলা ফ্লোরে ছড়িয়ে দিয়ে এর উপর টাইলস বসিয়ে লেভেল কর প্রয়োজন মত উঠানো, নামানো, সরানো যা প্রয়োজন করবে এর পর লেভেল ওকে হলে টাইলস সরিয়ে সিমেন্ট পানি মিশ্রিত গ্রাউটিং শুকনা মসলার উপর দিয়ে ঢেলে ভেজা বানাইয়ে নিয়ে মাঝে মাঝে কর্নি দিয়ে উক্ত মসলা কেটে কেটে রাফ করে দিবে এর পর টাইলস বসাতে হবে, প্রয়োজন মত রাবার হেমার দিয়ে হালকা হিট কর এবং লেভেল ফাইনাল কর ঠিক আগের নিয়মে ফাকা,পরিস্কার, কিউরিংকরতে হবে।
 
৬। সব টাইলস যেন এক লাইনে থাকে শর্টপিস যেন দৃষ্টি কটু না লাগে এরুপ ব্যবহার করবে আর বাথরুম হলে স্লোপ দিতে হবে খুব ক্লোজ করে ধর ৫ ‘ এ ১”।
 
৭। ফ্লোর টাইলস এর মসলার পুরুত্ব ফ্লোর লেভেলের উপর নির্ভর করবে তাই ছাদ ঢালাইয়ের সময় ই ছাদের টপ লেভেল সমান রাখতে হবে নতুবা টাইলস করার সময় মসলার পুরুত্ব বেড়ে যাবে এতে লোড ও নির্মান ব্যয় বেড়ে যাবে।
 
৮। ১ থেকে ১.৫” পুরুত্ব ফ্লোরের ক্ষেত্রে এলাওবেল।
 
৯। বাথরুম কিচেনের বেলায় কমোডের অংশ,ওয়েষ্ট ওয়াটার পাইপের জায়গা,ফিটিংসের,ও হাউস, বার্নার স্ল্যাব এর জায়গায় টাইলস লাগাতে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে আর কোনার টাইলস জয়েন্টে দুটো টাইলস আর সাইড গুলো V শেইপে কেটে নেবে একে মুখোমুখি মিলে যাবে একে টাইলসের চোজ করা বলে।

সতর্কতা ( Tiles Installation Method )

১) সারফেসকে ২/১ দিন পানি দিয়ে কিউরিং করতে হবে এবং শুকাতে হবে এভাবে কয়েদিন করতে হবে। নতুবা সারফেস মর্টারের পানি শোষন করে নেবে ফলে পানি ছাড়া মর্টারের সাথে টাইলসের বন্ড হবে না অথবা টাইলস বসানোর কয়েকদিনের মধ্যেই মর্টার – টাইলস বন্ড ছেড়ে দেবে।
 
২) মর্টারকে সঠিক নিয়মে ও রেশিওতে মিক্সিং করতে হবে প্রথম থেকে ভেজা বালি ব্যবহার করা যাবে না। কারণ বালির সাথে সিমেন্ট মিসবে না। আমাদের মিস্ত্রী হেলপার সঠিকভাবে মর্টার পেস্টিং করতে চায়না অনেক জায়গায় দেখছি মর্টার ভেজানোর পর বালির কালার রয়েগেছে সেই অবস্থায় মর্টার কাজে লাগাচ্ছে। মর্টার এমনভাবে মিক্সিং করতে হবে যেন পেস্ট গ্রে কালার ধারন করে। নতুবা বন্ডিং দূর্বল হবে।
 
৩) আধা ভেজা মর্টার লেভেলের পর  যখন এর উপর টাইলস বসানোর জন্য সিমেন্ট গোলানা পানি বা গ্রাউট দিবে তখন সেই গ্রাউটিং মিশ্রিত মর্টার বেডকে কর্ণি দিয়ে কেটে কেটে আধাভেজা মর্টারের ভেতর গ্রাউটিং ঢোকাতে হবে এখানেই আসল খেলা কারণ এই অবস্থায় মর্টার নেড়েচেড়ে মেশানোর সুযোগ নেই তাই প্রথম ড্রাই মর্টার তৈরীর সময়ই উত্তমরুপে মিশ্রণ সমুহ মেশাতে হবে। অন্যথায় এখানে সাময়িকভাবে বন্ডিং হলেও একসময় বন্ড ছেড়ে দেবে ফলে টাইলস উঠে যাবে।
 
৪) টাইলস করার পর দুটো টাইলসের মাঝে যে ফাঁকা জায়গা রাখা হয় সেটা পাতলা টিন বা স্ক্রেপ বা পাতলা কর্ণির মাথা দিয়ে যতটা সম্ভব গবীর করে পরিস্কার করতে হবে যাতে কিউরিং এর পানি ঢোকে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যে কোন মিশ্রণের একটা ক্যামিক্যল রিয়েকশন থাকে যার বিক্রিয়ায় একপ্রকার গ্যাস তৈরি হয়। এখন টাইলসের নীচে যে মর্টার ব্যবহার হয়। তাতে থাকে সিমেন্ট আমরা জানি সিমেন্টের মধ্যে নানা প্রকার উপাদান মিশ্রীত যা পানির সাথে বিক্রিয়া করে ফলে তাপতো উৎপন্ন হয়ই সাথে গ্যাসও উৎপন্ন হয় । অন্যান্ন মর্টার পানি মিশিয়ে উন্মুক্ত রাখা হয় বলে আমরা টের পাইনা।
কিন্তু ফ্লোর টাইলসের ক্ষেত্রে আধাভেজা মর্টারে সিমেন্ট পানি দিয়েই কিন্তু টাইলস বসিয়ে ফেলি ফলে এর মধ্য রিয়েকশান হয়ে রেজাল্ট (গ্যস) বের হওয়ার সুযোগ পায়না সেটা বের হওয়ার জন্যই দুটো টাইলসের মাঝের ফাঁক যা ৭ দিন রাখলে ভাল নতুবা ৩-৪ দিন। অনেক সময় শোনা যায় টাইলস লাগানোর কয়েকবছর পর প্রচন্ড শব্দে ফেটে যাচ্ছে আসলে এর কারণ হচ্ছে এই গ্যস এটা রেখেই যখন ফাঁক বন্ধ করা হয় তখন আস্তে আস্তে এটা স্টোর হতে থাকে একসময় তাপে ও চাপে এটা বিস্ফোরিত হয়।
 
৫) চটের বস্তা বা পানি জমিয়ে কিউরিং করতে হবে যাতে টাইলসের নীচের মর্টার আস্তে আস্তে পানি শোষনের সময় ও সুযোগ পায়। পানি সার্বক্ষনিক রাখলে টাইলসের নীচের পুরো সারফেসে পানি যাওযার সুযোগ পাবে।

ওয়াল টাইলস লাগানোর নিয়ম ( Tiles Installation Method )

১। টাইলস ওয়ালের হলে সর্ব প্রথম টাইলস গুলো পানিতে ভেজান ১-২ ঘন্টা কারন ইটের মত এগুলো ও পানি শোষন করে ।
 
২। ওয়াল ভেজান প্রয়োজন মত যেন ওয়াল টাইলসের মসলার পানি শোষন করতে না পারে
 
৩।দেয়ালের বাড়তি ইট গুলো ভেংগে নিন আর রাফ হিসাব করে দেখেন পূর্ন টাইলস কোথায় পড়বে আর শর্ট পিস কোথায় পড়বে
 
৪।শর্ট পিস সব সময় দরজার পিছনে দেবেন যাতে দরজা খুললে ঢাকা পড়ে যায়
 
৫। স্যনিটারি লাইন পানি দিয়ে চেক করুন লিকেজ আছে কিনা বা প্রেসার কেমন না হলে পরে টাইলস ভাংগা লাগবে।
 
৬। মসলা তৈরী করতে হবে ১:৪ ক্ষেত্র বিশেষে ১:৩ ও করা হয় এর পর দেয়ালে পায়া বা লেভেল করুন আর টাইলস লাগানো শুরু করুন।
 
৭। খেয়াল রাখবেন সব টাইলস যেন সমান হয় আর ২ টাইলস এর মাঝে ১-২ সুতা ফাকা থাকে
 
৮। টাইলস এর নীচে মসলা ঠিক মত মানে পুরো টাইলসএই যেন মসলা লাগানো হয় অন্যথা শুকালে আওয়াজ করবে আর অল্প আঘাতেই ওই অংশ ভেঙ্গে পড়বে।
 
৯। টাইলস সময়ই মার্কিন কাপড় দিয়ে অবশ্যই পরিস্কার করে নেবেন সাথে সাথে না হলে করার পরে উঠবেনা বা অতিরিক্ত ঘষাঘষিতে টাইলস ডিসকালার বা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
 
১০। শর্টপিস করার সময় টাইলস কার্টার দিয়ে খুব সাবধানে কাটতে হবে অন্যথা টাইলসের নিকেল উঠে যাবে।
 
১১। মসলার থিকনেস ১/২” থেকে ক্ষেত্র বিশেষে ১” পর্যন্ত এলাও তবে সব নির্ভর করবে ওয়ালের লেভেলের উপর।
 
১২। টাইলস করার ১২ ঘন্টা পর থেকে কিউরিং করবেন।
 
১৩। ৫/৭ দিন পর টাইলস ধুয়ে শুকিয়ে ফাঁকা জায়গাগুলোতে ফুটিং করবেন এর পূর্বে করলে মসলার ভেতরকার গ্যাস বের হতে না পারলে টাইলস ফেটে যাবে।
 
১৪।ওয়াল টাইলস সব সময় উপর থেকে নীচের দিকে করে আসলে টেকনিক্যলি সুবিধা পাওয়া যায়।
 
১৫। টাইলস নির্বাচনের সময় অবশ্যই সমান মাপের টাইলস নির্বাচন করবেন এবং একই রকমের টাইলস একবারে কিনে ফেলবেন।

টাইলস হিসাব

কত পিচ টাইলস লাগবে?
ফ্লোর
১৫০০ বর্গফুট জায়গায় টাইলস লাগাতে হবে তাহলে ৮% ওয়েস্টেজ সহ মোট পরিমান ১৬২০
 
বর্গফুটটাইলসের সাইজ ১২”x১২” হলে একটি টাইলসের এরিয়া
 
(১২”x১২”)÷১৪৪ = ১ বর্গফুট
 
টাইলসের সংখ্যা= ১৬২০÷১= ১৬২০ পিচ.টাইলস
 
ওয়াল
ওয়াল টাইলসে আমরা ১০% ওয়েজস্টেজ ধরি
 
তাহলে টাইলসের পরিমান
 
= ১৫০০x১.১০
 
= ১৬৫০ বর্গফুট
 
টাইলসের সংখ্যা= ১৬৫০÷১= ১৬৫০ পিচ.টাইলস
 
টাইলস এর জন্যে মসলার হিসাব
 
ওয়ালে আমরা ১” পুরুত্ব মসলা ধরে থাকি
 
ওয়ালে মসলার অনুপাত (১:২)
 
ফ্লোরে আমরা ১.৫” পুরুত্ব মসলা ধরে থাকি
 
ফ্লোরে মসলার অনুপাত (১:৩)
 
১৫০০ বর্গফুট ওয়াল টাইলসের মালামাল
 
বের করবো
 
প্লাষ্টারের ভেজা মসলার পরিমান
 
= ১৫০০x(১”÷১২)
 
= ১২৫ ঘনফুট
 
শুকনা মসলার পরিমান = ১২৫x১.৫
 
= ১৮৭.৫০
 
অনুপাতের যোগফল = (১+২)=৩
 
মালামাল
 
সিমেন্ট = (১৮৭.৫০x১÷৩)x০.৮
 
= ৫০.০০ ব্যাগ
 
বালি = (১৮৭.৫০x২÷৩)
 
= ১২৫.০০ ঘনফুট

সঠিক ভাবে ফ্লোর টাইলস লাগানোর নিয়ম | টাইলস নিয়ে সব সমস্যার সমাধান।

ফ্লোর টাইলস ভাঙ্গার কারণ কি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *